Measles : Symptoms, prevention, and the 7 best homeopathic medicines to manage complications and support faster recovery naturally.

হাম (Measles)  এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

Measles

আজকে  হাম (Measles) লক্ষণ ও এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। সম্প্রতি  আবহাওয়ার  পরিবর্নের কারনে  আমাদের দেশে  ব্যাপকভাবে শিশুরা  এ  রোগে আক্রান্ত হচ্ছে । হাম (Measles) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে সঠিক সময়ে যত্ন ও চিকিৎসা নিলে এটি দ্রুত সেরে ওঠে।

১.হামেরকারণ (Causes)

হামের প্রধান কারণ হলো ‘রুবিওলা’ (Rubeola) নামক একটি ভাইরাস। এটি মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় নির্গত ড্রপলেটের মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা তার ব্যবহৃত রুমাল, গামছা ব্যবহার করলেও এই রোগ ছড়ায়।

২.হামেরলক্ষণ (Symptoms)

হামের লক্ষণগুলো সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের ৩-৭ দিন পর প্রকাশ পায়। একে প্রধানত: নিম্নোক্ত পর্যায়ে ভাগ করা যায়:

  • প্রাথমিক পর্যায়: তীব্র জ্বর, শুকনো কাশি, নাক দিয়ে জল পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং আলোতে চোখের অস্বস্তি।
  • কোপ্লিক স্পট (Koplik’s spots): গালের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদাটে বা নীলচে-সাদা দাগ দেখা দেয়।
  • র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি: জ্বর শুরুর ৩-৫ দিন পর কান ও মুখের চারপাশ থেকে লালচে গুটি বের হতে শুরু করে এবং দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
  • অন্যান্য: শরীর ম্যাজম্যাজ করা, ক্ষুধামন্দা এবং ক্লান্তি।

৩. শিশুদের হামের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা (Homeopathic Treatment):

হোমিওপ্যাথিতে রোগীর শারীরিক ও মানসিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ওষুধ নির্বাচন করা হয়। হামের ক্ষেত্রে সাধারণ কিছু কার্যকরী ওষুধ হলো:

৪. শিশুদের ওষুধ প্রয়োগে বিশেষ সতর্কতা

শিশুদের ক্ষেত্রে ওষুধের শক্তি (Potency) এবং মাত্রা (Dosage) নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত শিশুদের জন্য নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করা হয়:

  • শক্তি: সাধারণত নিচু শক্তি যেমন 6C বা 30C শিশুদের জন্য বেশি উপযোগী।
  • মাত্রা: ১-২ ফোঁটা ওষুধ সামান্য পরিশ্রুত জলের সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। অথবা ছোট গ্লোবিউলস (মিষ্টি বড়ি) আকারে ২-৩টি করে দেওয়া যেতে পারে।
  • ফ্রিকোয়েন্সি: তীব্র লক্ষণে ১-২ ঘণ্টা অন্তর দেওয়া যেতে পারে, তবে লক্ষণ কমলে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে দিতে হবে।

৫. পথ্যওআনুষঙ্গিকব্যবস্থা (Diet and Care)

      হামের সময় সঠিক পুষ্টি ও বিশ্রাম আরোগ্য লাভ করতে সাহায্য করে:

  1.  শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ও তরল খাবার (যেমন- ডাবের জল, ফলের রস) দিন।
  2. শরীর স্পঞ্জ করার প্রয়োজন হলে কুসুম কুসুম গরম জল ব্যবহার করুন।
  3. তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং খোলা­­­­মেলা পরিবেশে রাখতে হবে।
  1.  জাউ ভাত, পাতলা ডাল, সাগু বা সেদ্ধ সবজি দেওয়া ভালো।
  2. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার (যেমন গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক) খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।
  3.  শিশুকে  বিশ্রামে রাখতে হবে এবং শরীর বেশি ঘামতে দেওয়া যাবে না।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের চেয়ে আলাদা। তাই যেকোনো ওষুধ খাওয়ানোর আগে একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করা অপরিহার্য। ভুল ওষুধ বা মাত্রার কারণে হিতে বিপরীত হতে পারে।

হামের (Measles) চিকিৎসায় লক্ষণ অনুযায়ী সাধারণত যে ৫টি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তারএকটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

১. একোনাইট  (Aconite Napellus)

Aconite Napellus

রোগের শুরুর দিকে যখন হঠাৎ তীব্র জ্বর আসে, সাথে প্রচণ্ড অস্থিরতা এবং মৃত্যুভয় থাকে। চামড়া গরম ও লাল হয়ে যায় এবং রোগীর খুব পানির তৃষ্ণা থাকে।

২. বেলেডোনা (Belladonna)

Belladonna

 যদি জ্বরের তীব্রতা খুব বেশি হয় এবং মুখমণ্ডল লাল হয়ে ফুলে যায়। রোগী চোখ মেলতে কষ্ট পায় এবং আলো সহ্য করতে পারে না। শরীরের চামড়া স্পর্শ করলে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হয়।

৩. পালসেটিলা (Pulsatilla)

Pulsatilla

 হামের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকরী। যখন সর্দি-কাশি থাকে এবং গলার স্বর বসে যায়। রোগীর মুখ শুকিয়ে থাকলেও একদম পানি তৃষ্ণা থাকে না এবং সে খোলা বাতাস পছন্দ করে।

৪. ব্রায়োনিয়া (Bryonia Alba)

Bryonia Alba

 যদি হামের দানাগুলো ঠিকমতো বের হতে না চায় বা বের হতে দেরি হয়। রোগীর প্রচণ্ড কাশি এবং বুক ব্যথা থাকে যা নড়াচড়া করলে বেড়ে যায়। রোগী একদম চুপচাপ শুয়ে থাকতে চায়।

৫. ইউফ্রেসিয়া (Euphrasia)

Euphrasia

 যখন হামের সাথে চোখের সমস্যা প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। চোখ দিয়ে অনবরত গরম পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং অনবরত সর্দি ঝরা এই ওষুধের প্রধান লক্ষণ।

১. মরবিলিনাম (Morbillinum)

Morbillinum

হোমিওপ্যাথিতে কোনো রোগাক্রান্ত উৎস থেকে তৈরি করা বিশেষ ওষুধকে ‘নোসোড’ (Nosode) বলা হয়। মরবিলিনাম হলো হামের প্রধান প্রতিষেধক বা প্রিভেন্টিভ ওষুধ। এটি সাধারণত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে যাতে ভাইরাসের আক্রমণ তীব্র না হয়।

২. পালসেটিলা (Pulsatilla)

Pulsatilla

অনেক সময় যদি আশেপাশে বা পরিবারের কারও হাম হয়ে থাকে, তবে অন্যদের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে পালসেটিলা পর্যায়ক্রমিকভাবে ব্যবহার করা হয়।

সেবন বিধি ও সতর্কতা:

  • মরবিলিনাম ২০০ (Morbillinum 200): সাধারণত প্রতিষেধক হিসেবে উচ্চ শক্তিতে (যেমন ২০০) অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কয়েক ডোজ সেবন করা হয়।
  • পরামর্শ: হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সাথে কথা বলে সঠিক মাত্রা (Dosage) জেনে নেওয়া উচিত, কারণ বয়স এবং শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ওষুধের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।

সতর্কতা : হাম সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে যদি শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া  , গলা ব্যাথা ,কানে ব্যথা বা প্রচণ্ড ডায়রিয়া দেখা দেয়, তবে দ্রুত  শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের   ত ত্বাবধানে চিকিৎসার ব্যবস্থা  করতে হবে।

সতর্কতা: হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক ও মানসিক লক্ষণের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। সঠিক মাত্রা এবং শক্তির (Potency) জন্য একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

ডাক্তারের সাথে কথা বলতে, নিচে দেওয়া নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করুন:

WhatsApp us

Find homeopathic medicines for other treatments